July 14, 2026, 6:15 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হরিনারায়ণপুর ইউনিয়নের পদ্মনগর এলাকায় নির্মাণাধীন একটি সড়কের কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সড়কের বেস নির্মাণে নিম্নমানের (তৃতীয় শ্রেণির) ইটের খোয়ার সঙ্গে মাটি মিশিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ঘটনায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি প্রকল্পে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তদারকির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, পদ্মনগর ব্রিজ থেকে হাওরের ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৭৬৭ মিটার দীর্ঘ নতুন সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদার সুমন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের দুই পাশে ইট দিয়ে সীমানা তৈরি করে মাঝখানে ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে। তবে ব্যবহৃত খোয়ার একটি বড় অংশ ধূসর-লাল রঙের এবং নিম্নমানের বলে প্রতীয়মান হয়। বিভিন্ন স্থানে খোয়ার সঙ্গে মাটিও মিশ্রিত অবস্থায় দেখা গেছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “আমরা বারবার ঠিকাদারের লোকজনকে বলেছি, নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার না করতে। প্রয়োজনে কাজ কিছুদিন বন্ধ থাকুক, কিন্তু নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা উচিত নয়।”
আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, “কয়েক দিন ধরে শুধু খোয়া ফেলা হচ্ছে। একটু এগোলেই দেখা যায়, খোয়ার মধ্যে প্রচুর মাটি মিশে আছে। এভাবে নির্মাণ করা হলে রাস্তা বেশিদিন টিকবে না।”
স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্যবহৃত ইটগুলো ভাটার সর্বনিম্ন মানের বলে মনে হচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের সামগ্রী দিয়ে নির্মিত সড়ক অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে, ফলে সরকারি অর্থের অপচয় ঘটবে।
অভিযোগকারীরা জানান, কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের প্রশ্ন, নিয়মিত তদারকি থাকলে কীভাবে এমন নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা সম্ভব হলো?
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঠিকাদার সুমন। তিনি বলেন, “নির্মাণকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে না। প্রকল্পের নির্ধারিত মান অনুযায়ী ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হারুন অর রশিদ বলেন, উন্নয়নকাজে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে নির্মাণকাজও বন্ধ করে দেওয়া হবে।
এদিকে এলজিইডির কুষ্টিয়া জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ জানান, অভিযোগের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ঠিকাদারকে নিম্নমানের ইটের খোয়া অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে লিখিত নোটিশও দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে একই ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু নিম্নমানের খোয়া অপসারণ করলেই হবে না; পুরো প্রকল্পের নির্মাণমান নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের মতে, শুরু থেকেই কঠোর তদারকি নিশ্চিত করা হলে এ ধরনের অনিয়মের সুযোগ তৈরি হতো না।